Breaking News
Below Header Banner Area
Above Article Banner Area

মুর্শিদাবাদে মাতৃ মা তে দুর্ভোগ

সুজিত কুমার দাসঃ- মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজের মাতৃ মা বিভাগে গর্ভবতী মায়েদের অবস্থা যথেষ্ট দুর্বিষহ। সম্প্রতি একজন প্রসূতির মৃত্যু ঘটনায় মাতৃ মা তোলপাড়। নার্সদের দুর্ব্যবহার ও অব্যবস্থা এখনও অব্যাহত। প্রসূতির বাড়ীর লোকজনদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে—
১) মাতৃ মা তে ভর্তি হবার টিকিট ঘর নেই। প্রসূতিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করতে গেলে অনেকটা দূরে মেডিকেল কলেজের সাধারণ বিভাগে টিকিট করতে যেতে হয়।
২) প্রসূতি লেবার রুমে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরালেও অমানুষিক ব্যবহার করা হয়। অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার জন্য দীর্ঘসময় অসহ্য ব্যথা ও অসহায়তা নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। আগে মাতৃসদনে ইউ এস জি করে গর্ভে শিশুর অবস্থান দেখে নিতো। এখন মাতৃ মা তে গ্লাভস পরে হাত জড়ায়ুতে ঢুকিয়ে দেখা হচ্ছে। মায়ের চরম যন্ত্রণা হচ্ছে। ভয় পেলে ডাক্তার প্রসূতিকে তুই তুকারি ভাষায় বলছে, ”আ্যই ন্যাকামি হচ্ছে, খোল, কাপড় খোল। প্রথমবার কাপড় খুলছিস নাকি ?
৩) প্রসূতিকে সিজার করে পেস্টিং সেলাই দিচ্ছে না। লায়লন সুতো দিয়ে ধর তক্তা মার পেরেক গোছের সেলাই করা হচ্ছে। ফলে মায়েদের সেলাই শুকোতে দেরি হচ্ছে, যন্ত্রণা হচ্ছে। ছয়দিনের দিন সেলাই কাটার সময়ও যথেষ্ট গাফিলতি করছে। অনেক মায়ের সেলাইয়ের সুতো লেগে রয়েছে। এতে ব্যথা ও পুঁজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।
৪) অপারেশন থিয়েটারে ডেলিভারি হওয়ার আগে ও পরে রিতীমতো হুমকি দিয়ে কিছু মহিলা ও পুরুষ কর্মচারী মা এর সঙ্গে থাকার অনুমতি পাওয়া বাড়ীর মহিলার কাছ থেকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা নিয়ে নিচ্ছে। গরীব মানুষ ভয় পেয়ে দিচ্ছে। পাছে তার ও বাচ্চার কোনো ক্ষতি করে।
৪) মাতৃ মা তে বর্তমানে আয়া ঢুকতে দেওয়া হয়না। বিগত দিনে বাচ্চা চুরি হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে। তাই নাকি এই পদক্ষেপ। ভালো কথা। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মায়ের সঙ্গে একজন বাড়ীর মহিলা নিয়ে আসা বাধ্যতামূলক। কিন্তু যে মায়ের কেউ নেই সে কি করবে ? মায়ের সঙ্গে আনা বাধ্যতামূলক উক্ত মহিলা টি কোথায় দাঁড়াবে, কোথায় বসবে, কোথায় শোবে তার কোনো ব্যবস্থা নেই। উল্টে তাদের হাসপাতালের নার্স ও সাফাইকর্মীদের কাছ‌ থেকে তুই তুকারি, খিস্তি গালাগাল, দূরছাই শুনতে হচ্ছে। নার্সদের দুর্ব্যবহার তাদেরকে অরাজকতার রাজ্যের কথা মনে করাচ্ছে। নার্সদের যেন কোনো মানবিকতা নেই। সভ্য মানুষের সমাজে বোধহয় এরা থাকেনা। এরা মানুষ কে মানুষ বলে মনে করে না। মানুষের ন্যূনতম সম্মান মর্যাদা এরা দিতেই জানেনা। দরীদ্র মানুষ অসহায় হয়ে মাতৃ মা তে চিকিৎসা নিতে এসেছে বলে এই রকম অমানুষিক মানসিক নির্যাতন তাদের প্রাপ্য ? মায়ের বাড়ীর মহিলারা বারান্দার একপাশে ঠাঁই নিয়ে একটু শোয়ার ব্যবস্থা করেছে কি সাফাইকর্মীরা তাদের ব্যাগ ও বিছানায় জল ঢেলে দিচ্ছে। অপমানে, লজ্জায় তাদের চোখ‌ দিয়ে জল পড়ছে।‌ অনেকে এমনও বলেছে, “এই নরকপুরীতে যেন আর না আসতে হয়।” তাহলে এই জন্যই নার্সরা ইচ্ছাকৃত এই দুর্ব্যবহার করছে ?
৫) ডেলিভারি হবার পর ব্যথা উপশম না হতে এবং মেয়াদের আগে জোর করে নার্সরা কষাইয়ের মতো টেনে হিঁচড়ে ক্যাথিট্রা টেনে খুলে দিচ্ছে।
৬) মাতৃ মা বিভাগে ঢোকার মুখে জুতো খুলে প্রবেশের জন্য জুতো রাখার জায়গা থাকা সত্ত্বেও গেটের সামনে অসংখ্য জুতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যেসকল এক্স মিলিটারি কর্মীরা গেটে ডিউটি করছে তাদের অনুশাসন এতোটাই রুঢ় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তারা মায়ের সঙ্গে ও মায়ের সঙ্গে আসা লোকজনদের সঙ্গে তুই তুকারি সম্বোধনে ধমক ধামক দিতে এবং মাঝে মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জুতোগুলোকে লাত্থি মেরে সরিয়ে দেবার ব্যাপারে আ্যতোটাই ব্যস্ত যে মানুষের উদ্দেশ্যে একটা সাইনবোর্ড লিখে জুতো রাখার জায়গায় জুতো রাখতে এবং নমনীয় ভাবে নির্দেশ দানের ক্ষেত্রে উদাসীন। এরা যুদ্ধ ক্ষেত্রে বিদেশী শত্রুর বিরুদ্ধে মোকাবিলা করবার বিষয়ে যদি আ্যতোটা রুক্ষ হোতো তাহলে ভারতের উপকার হোতো। সিভিল জায়গায় ডিউটি করার জন্য এদের ট্রেনিং প্রয়োজন। এক্স মিলিটারি ডিউটি কর্মীদের দৃষ্টিতে ডাক্তার, নার্স, সাফাইকর্মী ও অন্যান্য কর্মচারীদের জুতোর নীচে গু থাকলে সেটা ক্ষীর হয়ে যায় আর গর্ভবতী মায়ের বাড়ীর মহিলাদের জুতোর নীচে যদি ক্ষীরও থাকে তাহলে গু হয়ে যায়। কারণ ওরা অনায়াসে জুতো পরে ঢুকছে আর বের হচ্ছে। আর এদের কে খালি পায়ে ঢোকাচ্ছে। আর এক্স মিলিটারি নিজেরা বুট পরে হাসপাতালের সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে।

হাসপাতাল চত্বরে গর্ভবতী মায়েদের বাড়ীর লোকজনদের সঙ্গে কথা বলে বেশ কিছু তথ্য জানা গেছে। তারপর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপারের কাছে এই সংক্রান্ত ত্রুটির বিষয়ে জানতে গেলে তিনি কোন সদুত্তর দেননি। আগ বাড়িয়ে মাতৃ মা বিভাগের নোডাল অফিসার রিতীমতো উত্তেজিত হয়ে রুঢ় ভাষায় জানান যে, “তারা এখন করোনা নিয়ে বেশী ব্যস্ত রয়েছেন। পারলে যেন কেউ অভিযোগ দাখিল করে।” তার একথার অর্থ ঠিক বোধগম্য হয় নি। সম্ভবত তিনি জানেন যে, এই অভিযোগের কোনো গুরুত্ব নেই। অভিযোগ করেও কিস্যুটি হবে না। চিকিৎসা নিতে আসা একজন জানালেন যে, “মাতৃ মা বিভাগের সব জায়গায় যদি সি সি ক্যামেরা থেকে থাকে তাহলে এই অব্যবস্থাগুলো এবং ডাক্তার, নার্স, সাফাইকর্মী, এক্সমিলিটারি ডিউটি কর্মীদের ও অন্যান্য কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার সব ক্যামেরা বন্দী থাকবে নিশ্চয়ই।” সুপারের কাছে বিষয়গুলো জানার জন্য গেলে তার এবং নোডাল অফিসারের সঙ্গে কথোপকথনও নিশ্চয়ই সি সি ক্যামেরায় বন্দী আছে আশা করা যায়। বহুজন জানিয়েছেন যে, “মুখ্যমন্ত্রী জননী সুরক্ষা যোজনা তে টাকা আর গাছ না দিয়ে বরং মাতৃ মা তে ডেলিভারি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ভালো ব্যবহারযুক্ত পরিষেবার উন্নয়ন করুন। তাহলেই আমরা কৃতজ্ঞ থাকবো, খুশী হবো। কিছু অমানুষদের অমানবিক ও আত্মকেন্দ্রিক আচরণ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে কলঙ্কিত করছে। এও কি একধরনের চাল ? কি জানি। বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।”

Sujit Kumar Das: The condition of pregnant mothers in the maternal department of Murshidabad Medical College is quite miserable. The mother was in a brawl over the recent death of a midwife. The abuse and mismanagement of nurses still continues. According to the people of the maternity home —
1) There is no ticket house for admission to the mother. If you want to be admitted in a dangerous condition, you have to go far to get a ticket in the general department of the medical college.
2) Inhuman use is also used in unbearable pain in the maternity labor room. You have to wait a long time with unbearable pain and helplessness to go to the operating theater. Earlier, she used to see the position of the baby in the womb by USG in the maternity ward. Now the mother is seen wearing gloves and putting her hands in the closet. The mother is in extreme pain. When you are scared, the doctor says to the midwife in Tukari language, Are you undressing for the first time?
3) Caesarean section is not giving pasting stitches. The nail board is being sewn with lylon thread. As a result, mothers are late in sewing and are in pain. There is also considerable negligence in sewing on six-day days. Many mothers have sewing thread. There is a possibility of pain and pus.
4) Some female and male employees are taking 500 to 1000 rupees from the housewife who is allowed to stay with the mother by threatening her before and after the delivery in the operating theater. Poor people are scared. Lest he and the baby be harmed.
4) At present the nanny is not allowed to enter the mother. In the past few days, there has been a fight over the theft of a child. So or this step. Good thing. But it is mandatory to bring a housewife with the mother on the instructions of the authorities. But what will the mother do if she has no one? There is no arrangement as to where the woman will stand, where she will sit, where she will sleep. On the contrary, from the nurses and cleaners of their hospital, you have to hear tukari, slander and distance. The abuse of nurses reminds them of a state of anarchy. Nurses seem to have no humanity. Probably they do not exist in the society of civilized people. They don’t think people are human. They do not know how to give minimum human dignity. Do poor people deserve this kind of inhuman mental torture because they have come to their mothers for treatment? The women of the mother’s house have arranged a place to sleep on one side of the verandah while the cleaners are pouring water on their bags and beds. Their eyes are watering with shame and embarrassment. Many have said, “Don’t come to this hell.” So is this why nurses are deliberately abusing this?
5) The pain is not relieved after the delivery and the nurses are forcibly pulling the catheter open like a butcher before the expiration date.
7) In spite of the fact that there is a place to keep shoes for entry at the entrance of the maternity ward, there are innumerable shoes scattered in front of the gate. Needless to say, the discipline of the ex-military personnel on duty at the gate is so harsh. They are so busy teasing Tukari with the mother and the people who come with the mother and kicking away the scattered shoes from time to time that they are indifferent to put a shoe in the place where the shoes are kept and give instructions in a flexible manner. India would have benefited if they had been so rude in dealing with foreign enemies on the battlefield. They need training to do their duty in civil places. In the eyes of ex-military duty personnel, if there is gu under the shoes of doctors, nurses, cleaners and other employees, it becomes late, and if there is late under the shoes of pregnant women, it becomes late. Because they are entering and leaving effortlessly wearing shoes. And who is entering them barefoot. And the ex-military themselves are roaming around the hospital wearing boots.

A number of information has come to light that pregnant mothers have been talking to family members on the hospital premises. When he went to the superintendent of the medical college hospital to find out about the error, he did not give a good answer. The nodal officer of the maternal department was furious and said in a stern tone, “They are too busy with Corona now. If possible, someone should file a complaint.” The meaning of his words was not clear. Perhaps he knows that this allegation has no significance. Complaining will not be a problem. “If there are CCTV cameras everywhere in the maternity ward, then all the cameras must be on hold for these misconduct and abuse of doctors, nurses, cleaners, exemplary duty workers and other staff,” said a visitor. Conversations with him and the nodal officer can also be expected to be captured on CCTV if he goes to the super to find out the issues. Many said, “Chief Minister Janani Suraksha Yojana should not give money and trees but development of delivery system and better use of services to mothers. Only then we will be grateful and happy. Inhuman and self-centered behavior of some inhumans is tarnishing the Chief Minister of West Bengal. What kind of rice? I don’t know. The message of justice cries out in silence. “

Below Article Banner Area

About Mahatab Chowdhury

Check Also

Q Waits “Sharodiya Digital Impact Awards 2020” winners announced

Making an end to all the speculations: Fourth edition of the fight for the best …

Bottom Banner Area